ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে কোনও সমঝোতা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলকূপ ও গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩০ মার্চ) হোয়াইট হাউসের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এ কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী ১০ দিনের মধ্যে একটি চুক্তি দেখতে চান। যুদ্ধের জন্য নির্ধারিত চার থেকে ছয় সপ্তাহের সময়সীমা এখনো বহাল আছে। আমাদের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
সংবাদ সম্মেলনে লেভিট দাবি করেন, বাইরে ইরান কড়া কথা বললেও পর্দার আড়ালে আলোচনা বেশ ফলপ্রসূ হচ্ছে। তিনি বলেন, ইরান গোপনে কিছু মার্কিন শর্তে রাজি হয়েছে। তাদের অবশিষ্ট নেতৃত্ব এখন আলোচনার জন্য ক্রমশ আগ্রহী হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই দাবি এই প্রথম নয়। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে যে, পর্দার অন্তরালে তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চলছে। সত্যিই দুদেশের মধ্যে ব্যাক চ্যানেলে আলোচনা শুরু হয়েছে কিনা সেটি স্পষ্ট নয়।
আলোচনার একটি ফলাফল হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচল শুরু হয়েছে বলে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি। লেভিট বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ২০টি ট্যাঙ্কার এই প্রণালি দিয়ে পার হবে বলে আমরা আশা করছি। এটি আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। তবে ইরান যদি এই যাতায়াতের ওপর কোনও শুল্ক আরোপের চেষ্টা করে, তবে আমরা তা সমর্থন করব না।
ইরান যুদ্ধের ব্যয়ভার বহনে আঞ্চলিক মিত্রদের, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চাপ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প এ বিষয়ে মিত্রদের ফোন করতে আগ্রহী বলে জানান লেভিট। তিনি বলেন, উপসাগরীয় মিত্ররা এ যুদ্ধের খরচ মেটাতে এগিয়ে আসুক, এমন একটি পরিকল্পনা প্রেসিডেন্টের মাথায় আছে। এ নিয়ে সামনে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, তেহরানের একটি অপেক্ষাকৃত যুক্তিবাদী অংশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে চুক্তি না হলে পরিণাম হবে ভয়াবহ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনও কারণে শিগগিরই চুক্তি না হয় এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া না হয়, তবে আমরা ইরানের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খারগ দ্বীপ উড়িয়ে দিয়ে আমাদের এই অবস্থান শেষ করব। এমনকি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোও ধ্বংস করা হতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ওই অঞ্চলে ১১ হাজারেরও বেশি কমব্যাট ফ্লাইট পরিচালনা করেছে মার্কিন বাহিনী। এতে ইরানের নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সামরিক চাপ আরও বাড়াতে ওই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। গত ২৭-২৮ মার্চ ৩ হাজার ৫০০ নৌসেনাসহ যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এছাড়া ইউএসএস বক্সার-এ চড়ে আরও হাজারো সেনা পশ্চিম উপকূল থেকে রওয়ানা হয়েছে। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের ২ থেকে ৪ হাজার প্যারাট্রুপারকেও দ্রুত মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


